পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর , দৈনিক সারা দুনিয়া।
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেশবপুরের মঙ্গলকোট ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ক ‘কমিউনিটি মত বিনিময় সভা, ‘ভিডিও প্রদর্শনী’ এবং র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি-২৫) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী এ, মুছা বিশ্বাস-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস।
আরও বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক পরেশ দেবনাথ, মঙ্গলকোট ইউপি সচিব ফেরদৌস হোসেন খান, মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুপ আলী, শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, কাজী ও শিক্ষক আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী মঙ্গলকোট ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল ইসলাম প্রমূখ।
গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মুছা বিশ্বাস গ্রাম আদালতের সেবা ও সুবিধা সম্পর্কিত বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ সময় তিনি এ আদালতে মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে এবং গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন বলে জানান।
আলোচনা শেষে ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক র্যালি বের করা হয়।
সভায় ইউনিয়নের ঈমাম, কাজী, পুরোহিত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, গ্রাম ডাক্তার, শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ইউপি সচিব, ইউপি উদ্যোক্তা, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৫ জন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মুছা বিশ্বাস গ্রাম আদালতের সেবা ও সুবিধা সম্পর্কিত বিষয়ে আরও বলেন, গ্রাম আদালত কীঃ ১। গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রা আদালত গঠিত হয়। ২। গ্রাম আদালত অনধিক ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। ৩। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। কেন আমরা গ্রাম আদালতে যাবোঃ ১। গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে বিরোেধ ও বিবাদ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। ২। প্রতিনিধি মনোনয়নে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী সমান সুযোগ পায়। ৩। পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারে, আইনজীবী দরকার হয় না। ৪। গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। ৫। পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। ৬। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খুব সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পায়। গ্রাম আদালত কীভাবে গ্রামের জনগণকে সহায়তা করতে পারেঃ গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ে বিরোেধ বা বিবাদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। গ্রাম আদালতে সবাই অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে প্রতিকার পায়। গ্রাম আদালতে আবেদনপত্র দাখিলের ফিস ছাড়া অন্য কোনো খরচ নেই। গ্রাম আদালত উচ্চতর আদালতের মামলার জট কমাতে সাহায্য করে।