পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এঁর ২০১তম জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা-২০২৫ উপলক্ষ্যে তাঁর জন্মস্থান কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে সাত দিনব্যাপী মধুমেলার দ্বিতীয় দিন শণিবার (২৫ জানুয়ারী-২৫) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার বলেছেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম এই তিন কবির মধ্যে একমাত্র খাঁটি বাংলাদেশী কবি বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের। সেদিক থেকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত আমাদের আত্মার আত্নীয়। তাঁর মেধা ও মননশীল সৃষ্টি চেতনায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করে বিশ্বের সঙ্গে বাংলার পরিচয় ঘটিয়েছেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি বিশ্ব ইতিহাসে আপন মহিমায় উজ্জল নক্ষত্র।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এঁর ২০১তম জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা-২০২৫ উপলক্ষ্যে তাঁর জন্মস্থান কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে সাত দিনব্যাপী মধুমেলার দ্বিতীয়দিন শণিবার (২৫ জানুয়ারী-২৫) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুজন সরকার-এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সোহান ও উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুণ্ডু-এর উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর তানভির দুলাল, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কবি, সাহিত্যিক সাঈদ আবু বক্কার, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোঃ মিজানুর রহমান খান, যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলাম, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মোঃ আহসান কবীর, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান, জিটিভি’র যশোর জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ মনি, পাঁজিয়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, যশোর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখপাত্র ফাহিম আল ফাত্তাহ, যুগ্ম আহবায়ক দেবব্রত দাশ, যুগ্ম সদস্য সচিব, মারুফ হাসান ও কেশবপুর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি রিফাত হোসেন মিজান।
শণিবার (২৫ জানুয়ারী-২৫) দুপুরে মধুমেলার দ্বিতীয় দিনে প্রথম পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিলো, কেশবপুর মাইকেল শিল্প গোষ্ঠী, কলতান সংগীত একাডেমি, লোকজ একাডেমি, সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন একাডেমি, পাঁজিয়া মনোজ ধীরাজ একাডেমি এবং সাতক্ষীরা জেলার পাটকেল ঘাটা স্বরলিপি সংগীত নিকেতন এবং বিকালে যশোর সপ্তসুর এর সঙ্গীত শব্দ থিয়েটার যশোরের পরিবেশনায় নাট্যানুষ্ঠান। এরপর মন্সী মেহেরুহ সাংস্কৃতিক সংসদের সঙ্গীত, আবৃতি করেন যশোরের নজরুল সাহিত্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন, কেশবপুর ডান্স বাংলা ডান্সের সাধারণ সম্পাদক মনজুর হোসেন ডব্লিউ ও কেশবপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রভাত কুমার রায়। রাতে মধুমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রাপালা ‘মা হলো বন্দি’ মঞ্চস্থ হয়।
মধুমঞ্চে সপ্তাহ ব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হচ্ছে। এ ছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা, জাদু প্রদর্শনী, পুতুলনাচসহ হরেক আয়োজন। গ্রামীণ জনপদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ধামা, কুলা, ঝুড়ি, দা, কাঁচি, বঁটি ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের জন্য কাঠের তৈরি নানান খেলনা। দানাদার, জিলাপি, বাতাসা, কদমা, ছাঁচের মিষ্টি, গজা, ল্যাংচা, সন্দেশ, রসগোল্লা, প্যাড়াসহ নানা পদের মিষ্টি মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ি গ্রামের জমিদার দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত আর মা জাহ্নবী দেবী। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মহাকবি মধুসূদন দত্ত মারা যান।